Discover Natural Beauty Tips
শীট মাস্ক কি এবং কিভাবে ব্যবহার করতে হয়?
জনপ্রিয় কোরিয়ান স্কিন কেয়ার রূটিন স্টেপ- শীট মাস্ক এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। আমাদের দেশেও এর বিস্তর ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। মূলত কম সময়ে ডাল অ্যান্ড ড্রাই স্কিন হাইড্রেশন ও স্কিন গ্লোয়িং বেনেফিটস এর কারণে এটি বেসিক স্কিন কেয়ারে জায়গা করে নিচ্ছে। তবে পণ্য উপযোগী ফলাফল পেতে অবশ্যই ত্বকের চাহিদা অনুযায়ী শীট মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কারণ প্রত্যেকের ত্বকের ধরন ও চাহিদা আলাদা হয়। তাই সেই অনুযায়ী প্রোডাক্ট বেছে নিলে তা ত্বকের জন্য বেশ কার্যকরী হয়।
তার আগে জেনে নেয়া ভালো শীট মাস্ক আসলে কি এবং কেনো ব্যবহার করা হয়।
শীট মাস্ক কি?
শীট মাস্ক হলো মুখাকৃতির পাতলা নরম কাপড়, পেপার কিংবা হাইড্রোজেল, যেটি সাধারণত সিরাম বা এসেন্স দিয়ে ভেজানো অবস্থায় সিলড প্যাকেজিং এ পাওয়া যায়। এই ধরনের সিরাম বা এসেন্স এর মধ্যে বিভিন্ন স্কিন ফ্রেন্ডলি ও ন্যাচারাল ইনগ্রেডিয়েন্টস যেমন- নিয়াসিনামাইড, ভিটামিন –সি, কোলাজেন,অ্যালোভেরা,পমিগ্রানেট, শিয়া বাটার ইত্যাদি থাকে।
কিভাবে ব্যবহার করতে হয় এই শীট মাস্ক?
১. প্রথমে পরিষ্কার হাতে প্যাকেট খুলে মাস্কটি সাবধানে বের করে নিন, জোড়ে টান দিবেন না, এতে ভেতরের শীট মাস্ক ছিঁড়ে যেতে পারে।
২. পরিষ্কার মুখে মাস্কটি লাগিয়ে রেখে ১৫-২০ মিনিট পরে সিরাম বা এসেন্স স্কিনে শুষে নিলে মাস্কটি তুলে ফেলে দিতে হয়।
৩. আলতো হাতে কাজটি করতে হবে এবং স্মুদলি যেন মাস্কটা স্কিনে লেগে থাকে সেদিকে একটু খেয়াল রাখলেই হবে।
৪. তুলে ফেলার পর মুখ ধোবার প্রয়োজন নেই। এই ধরনের কেবল একবারই ব্যবহার করা যায়।
বেশী সময় ধরে শীট মাস্ক পরে থাকলে এটি ড্রাই হয়ে যায়, এতে স্কিনের পিএইচ ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে স্কিন ইরিটেট হতে শুরু করে। ড্রাই শীট মাস্ক স্কিনের ময়েশ্চার টেনে নিয়ে স্কিন ব্যারিয়ার দুর্বল করে ফেলে, এতে স্কিন সেনসিটিভিটি বেড়ে যায়। তাই শীট মাস্ক ১৫-২০ মিনিট পরেই তুলে ফেলতে হয়।
৫. শীট মাস্কে থাকা এক্সেস সিরাম বা এসেন্স অনেকে ফেলে দেন। এটা ফেলে না দিয়ে এক্সেস এই সিরাম বা এসেন্স শীট মাস্কের ওপর ব্যবহারের পর বাকিটুকু হাতে-পায়ে মেখে নিতে পারেন। আজকাল শীট মাস্কের অনেক ভ্যারিয়েন্ট দেখা যায়। কিছু মাস্ক আছে যেগুলো স্কিনে একেবারে অ্যাবজর্ব হয়ে যায়। তাই ব্যবহারের আগে প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশনা পড়ে নিন। সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুন।
ত্বকের ধরন বুঝে শীট মাস্ক বেছে নিন
- শুষ্ক ত্বকের জন্য: হাইড্রেটিং ও ময়েশ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত শীট মাস্ক যেমনঃ হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, অ্যালোভেরা,হানি,কোকো বাটার ইত্যাদি।
- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য: অয়েল-কন্ট্রোল ও পোর-মিনিমাইজিং শীট মাস্ক যেমনঃ নিয়াসিনামাইড, কেওক্লিন ক্লে, গ্রীন-টি এক্সট্র্যাক্ট, চারকোল ইত্যাদি।
- ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য: স্যালিসিলিক অ্যাসিড বা টি-ট্রি অয়েলযুক্ত শীট মাস্ক।
- উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য: ভিটামিন সি বা ব্রাইটনিং এজেন্ট যেমনঃ কোলাজেন, আলফা আরবুটিন, শীট মাস্ক ইত্যাদি।
কিভাবে সংরক্ষণ করবেন এই শীট মাস্ক
যে কোন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে তা সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ এর ওপর । শীট মাস্ক সাধারণত রুম টেম্পারেচারে রেখেই সংরক্ষণ করা হয়, তবে স্কিনে ইনস্ট্যান্ট রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য ফ্রীজে রেখে সংরক্ষণ করলে তা আরো ভালোভাবে কাজ করে। স্কিন রিল্যাক্সিং এর সাথে সাথে শীট মাস্ক ঠান্ডা থাকার কারণে পোর মিনিমাইজিং- এ সাহায্য করে। তাই বলে শীট মাস্ক কিন্তু ডিপে রাখা যাবেনা। ডিপ ফ্রীজিং এর কারণে শীট মাস্কে থাকা ইনগ্রেডিয়েন্ট নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই নরমাল রেফ্রিজারেশনে রাখুন।
স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের প্রথম ধাপই হলো তার আর্দ্রতা ধরে রাখা। ব্যস্ত জীবনে সময় স্বল্পতার কারণে যারা ঠিক মতো স্কিন কেয়ার করতে পারেন না, শীট মাস্ক হতে পারে কনভেনিয়েন্ট স্কিন হাইড্রেশন। ট্রাভেল ফ্রেন্ডলি হওয়ায় এটি আসলে যে কোন জায়গায়, যে কোন সময় ব্যবহার করা যায়। অনেক সময় ট্রেন্ডি স্কিন কেয়ার রুটিন শুধু হাইপ নয়, ত্বকের প্রাথমিক সমস্যা সমাধানেও ইফেক্টিভলি কাজ করে থাকে। তাই নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন।