Discover Natural Beauty Tips
অতিরিক্ত গরমে চুলের যত্ন
প্রকৃতির এই স্বার্বক্ষণিক পরিবর্তনের ধারায় আমাদেরকে বেঁচে থাকার তাগিদে তার নিয়মেই নিজেকে মানিয়ে নিতে হয় । আর এই চলমান প্রক্রিয়ায় ত্বকের সাথে সাথে আমাদের চুলের ও যত্নের প্রয়োজন। গরমের এই সময় বাতাসে আর্দ্রতা অতিরিক্ত থাকার কারণে শরীরের অন্যান্য অংশের মতো আমাদের মাথার স্ক্যাল্প ও ঘেমে যেতে থাকে। এতে স্ক্যাল্পে ইরিটেশন, বিল্ড আপ, স্মেলিং, খুশকি এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা চুল পড়া বা হেয়ার ফল শুরু হয়ে যায়।
খুব সহজ কিছু উপায়ে এইসব সমস্যার কিছুটা সমাধান পাওয়া যায়।
যেমন-
সরাসরি সূর্যের আলো থেকে বিরত থাকুন
ইউভি ইনডেক্স এ সূর্যের অতিবেগুনী রশ্নির প্রভাব অনেক বেশী থাকে । এই রশ্নি আমাদের হেয়ার প্রোটিন ক্ষতিগ্রস্থ করে। এতে আমাদের চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং চুল পড়ে যেতে শুরু করে যেটি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে হয়। এছাড়া অতিরিক্ত সান এক্সপোজারের কারণে আমাদের চুলের রঙ ফ্যাকাশে হতে থাকে এবং প্রিম্যাচিউর গ্রে হেয়ার বা চুল সাদা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। তাই দিনের বেলা ছাতা,পাতলা নরম স্কার্ফ বা টুপি দিয়ে চুল ঢেকে নিতে হবে। আজকাল চুলের জন্য সানস্ক্রিন হিসেবে সান প্রোটেকশন স্প্রে এবং হেয়ার সিরাম পাওয়া যায়। চাইলে সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
চুল পরিষ্কার রাখুন
গরমকালে আমাদের হেয়ার স্ক্যাল্প ও সাথে সাথে ঘেমে যায়। যার কারণে চুল ভেতর থেকে ঘেমে ওঠে আরও বেশি ময়লা হয়, খুশকি হয় এবং অতিরিক্ত তেল জমে চিটচিটে ভাব তৈরি হয়। তাই চুলের সমস্যা ও ধরন বুঝে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। প্রোপার হাইড্রেশনের অভাবে চুল ড্রাই হয়ে আগা ফাটা শুরু হয়। চুলের ময়েশ্চারাইজেশন ধরে রাখতে তাই সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার নন স্টিকি অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করে শ্যাম্পুর পর হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। এতে চুল হবে সফট অ্যান্ড শাইনি।
হেয়ার অয়েলিং
উশকো খুশকো চুলের যত্নে চুলে অবশ্যই তেল দিতে হবে। সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। তেল এভাবে লাগিয়ে রাখলে স্ক্যাল্প ক্লগড হয়ে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাই শ্যাম্পু ব্যবহারের আগে তেল স্ক্যাল্পে ভালোমতো ম্যাসাজ করে নিন। ৩০ মিনিট পর নরমাল শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে নিন। চুলে ইনস্ট্যান্ট সফটনেস এর জন্য হেয়ার সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।
হিট স্টাইলিং টুলসের ব্যবহার কমানো
বিভিন্ন স্টাইলিং ট্যুলস যেমন- স্ট্রেইটনার, হেয়ার কার্লার, ড্রায়ার এসব ঘন ঘন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন । স্ট্রেইটেনিং বা ড্রাইয়িং এ থাকা এক্সেসিভ হিট চুলকে ড্যামেজ করে ফেলে। তখন চুল মাঝখান থেকে ভেঙ্গে পড়তে থাকে। এসব ট্যুলস ব্যবহার করা আগে হিট প্রোটেক্টিং স্প্রে, জেল বা সিরাম ব্যবহার করে নিলে হেয়ার ড্যামেজ কিছুটা কম হয়।
সময় নিয়ে ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন
চুল পড়া বা খুশকি এই সমস্যা গরমে বলতে গেলে সবারই হয়ে থাকে। তাই চুলের যত্নে খুব বেশি কিছু নয়, সহজ ঘরোয়া উপায়ে হেয়ার মাস্ক সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করতে পারেন।
১. দই এবং মধু হেয়ার মাস্ক
২ টেবিল চামচ দই, ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ চা চামচ লেবুর রস সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।এটি চুলকে মসৃণ করে এবং খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।
২. নারিকেল তেল ও অ্যালোভেরা মাস্ক
২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল ও ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল এই দুটি উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে লাগান। স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলে পুষ্টি জোগায় এবং শুষ্কতা দূর করে।
৩.কলা ও মধু হেয়ার মাস্ক
১টি পাকা কলা, ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ টেবিল চামচ দই কলা ভালোভাবে ম্যাশ করে মধু এবং দই মিশিয়ে নিন। এটি চুলে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই হেয়ার মাস্ক চুলকে সফট অ্যান্ড শাইনি করে তোলে।
ঋতুর এই চলমান ধারায় মানিয়ে নিতে সমস্যাও যেমন আছে তেমনি তার সমাধান ও আছে। চুল আমাদের আত্নবিশ্বাস এর প্রতীক । ব্যস্ততার এই জীবনে সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললে চুলের অনেক সমস্যার সমাধান খুব সহজেই ঘরে বসে করা যায়। আপনার সুন্দর চুলের যত্ন নিন প্রতিদিন।