BANGLA, Blog

একনি প্রোন স্কিন কেয়ার

স্কিনে একনি হওয়া নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। আমাদের সবার মধ্যে একটা ধারণা আছে একনি শুধু মাত্র অয়েলি স্কিনেই হয়ে থাকে। একনি আসলে সব রকমের ত্বকে হতে পারে। এর অবশ্য অনেক কারণ আছে। শুধু যে ভুলভাল স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেই যে একনি হবে তা কিন্তু নয়। আমাদের স্কিনে আশেপাশের সব কিছুর ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক দুটোরই প্রভাব আছে। স্কিনে একনি হওয়া এই প্রতিক্রিয়ারই একটি অংশ। তাই এই সময় দরকার বিশেষ যত্নের।

একনি কি?

আমাদের স্কিনে ছোট ছোট পোরস আছে। এগুলো মূলত শরীর থেকে ঘাম ও সিবাম নিঃসরণে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং স্কিন হেলদি রাখতে সাহায্য করে। পোরসে এক্সেসিভ অয়েল প্রোডাকশন,ময়লা ও ডেড স্কিন সেল ইত্যাদি জমে ত্বকে বাম্পস বা ইনফ্ল্যামেশন এর সৃষ্টি হয়। এটিই মূলত একনি। একনি আকারে দেখতে সিস্ট এর মতো বড় হয় এবং মাঝে মধ্যে তীব্র ব্যাথা অনুভূত হয়। ইনফ্ল্যামেটরি একনি, ত্বকে গভীরে ফুলে থাকে এবং ব্যাথা করে।এগুলোকে বলা হয় প্যাপিউলস (হরমোনাল ও ফাংগাল একনি), পাসটুওলস, নডিউলস ও সিস্টিক একনি। অপরদিকে নন-ইনফ্ল্যামেটরি একনি সাধারণত স্কিনের সারফেস লেভেলে আকারে ছোট থাকে এবং ব্যাথা বা অতিরিক্ত ফোলা ভাব দেখা যায় না। যেমনঃ ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস। একনি ত্বকের যে কোন অংশে হতে পারে।

কি কি কারণে একনি হতে পারে?

ত্বকে একনি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে,

পরিবেশগত কারণ: ধুলোবালি-ময়লা, হিউমিডিটির কারণে ঘাম, অতিরিক্ত সিবাম প্রোডাকশন ও ডেড স্কিন সেল পোরস ক্লগড করে একনি সমস্যার সৃষ্টি করে।

ঠিক মতো মুখ না ধোয়া: সারাদিন পর মুখ ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে একনির সমস্যা বেড়ে যায়।

হরমোনের পরিবর্তন: বয়ঃসন্ধিকাল, গর্ভাবস্থায় কিংবা মাসিকের সময় বিভিন্ন হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে স্কিনে একনি দেখা যায়।

তেল জাতীয় খাবার গ্রহণ: অতিরিক্ত ভাজা পোড়া খাবার ও চর্বি যুক্ত খাবার স্কিনে একনি হতে সাহায্য করে।

মানসিক চাপ: কাজের চাপ, অবসাদ ও ক্লান্তি থাকলে স্কিনে একনি হয়।

একনি হলে করণীয় কি?

জেন্টাল ক্লিঞ্জার ব্যবহার

একনি হলে টি ট্রী, নিম, বা স্যালিসিলিক অ্যাসিড যুক্ত মাইল্ড ফেসওয়াশ দিনে অন্তত ২ বার ব্যবহার করুন। স্কিনের যে জায়গায় একনির সমস্যা বেশী আছে সেখানে পরিমাণমতো ফেসওয়াশ দিয়ে ভালভাবে মুখ ধুয়ে নিন।

ময়েশ্চারাইজিং

একনি হলে সবার আগে মাথায় আসে ক্রিম জাতীয় প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলা। এমনটি করা মোটেও উচিৎ নয়। স্কিন অভারড্রাই হয়ে গেলে ড্রাইনেস দূর করার জন্য স্কিন অতিরিক্ত সিবাম প্রোডাকশন শুরু করে এবং ত্বকে তৈলাক্ততা দেখা যায়। তাই ত্বকের ধরন অনুযায়ী বেসিক স্কিন কেয়ার স্টেপ হিসেবে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

সানস্ক্রিনের ব্যবহার

অনেক লম্বা সময়ের জন্য স্কিন সান এক্সপোজড হয়ে থাকলে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্নি ত্বকের গভীর স্তর অবদি নষ্ট করে দেয়। এতে সানবার্ন সহ একনির সমস্যা দেখা দেয়। তাই বাইরে বের হওয়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে ভালো এসপিএফ যুক্ত সান্সক্রিন ব্যবহার করুন।

ডাবল ক্লিজিং

এই স্কিন ক্লিজিং মেথড এখন বেশ জনপ্রিয়। ত্বকের জমে থাকা ময়লা, তেল,সানস্ক্রিন বা মেকআপ পোরস ক্লগড করে ফেলে। এতে স্কিনে একনি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নেবার আগে যে কোন ক্লিঞ্জিং অয়েল বা মাইসেলার ওয়াটার দিয়ে স্কিন ক্লিন করে নিতে হবে।

মানসিক চাপ কমান

কাজ শেষে ঠিকমতো বিশ্রাম নিন। চাইলে অল্প কিছু সময়ের জন্যে ঘরে বসে মেডিটেশন করে নিতে পারেন। এতে অনেকটা রিল্যাক্সড ফিল হয়।

অতিরিক্ত মিষ্টি ও তেল জাতীয় খাবার পরিহার করুন

অতিরিক্ত তেল, মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। খাবারে তাজা শাক-সবজি ও ফলমূল প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।

স্কিন ওভার এক্সফোলিয়েট না করা

স্কিনে একনি থাকলে বার বার স্কিন এক্সফোলিয়েট করবেন না। সপ্তাহে ১-২ দিন জেন্টাল স্ক্রাব ব্যবহার করুন।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিন

একনির সমস্যা খুব বেশী থাকলে ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।

মুখে বার বার হাত না দেয়া

আমরা হাত দিয়ে নানা রকম কাজ করি। অপরিষ্কার হাতে একনি খোঁচাখুঁচি করবেন না। এতে একনি ব্যাকটেরিয়া সারা মুখে ছড়িয়ে যায় এবং একনির দাগ বসিয়ে ফেলে।

ত্বক তার ধরন অনুযায়ী সময় কিংবা পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে পরিবর্তশীল। একনি প্রোন স্কিনে সব ধরনের স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট স্যুট করবে না এটা স্বাভাবিক । কারণ এই সময় স্কিন সেনসিটিভ হয়ে যায়। তাই যে কোন নতুন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিন। ভালো থাকুন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *