Discover Natural Beauty Tips
কেনো ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিৎ?
নিজেদের ত্বক নিয়ে আমরা এখন সবাই বেশ সচেতন। ব্যস্ততার মাঝেও আমরা চেষ্টা করি নিজেদের ত্বকে আর কিছু না হলেও ভালো একটা ময়েশ্চারাইজার তো আমরা সবাই ব্যবহার করি। সারাদিনের কর্মব্যস্ততায়, শারীরিক অসুস্থতায় কিংবা মানসিক নানা চিন্তায় এই ধরনের অবস্থায় আমরা সব সময় থাকি। এইসব কিছুর প্রভাব আমাদের ত্বকে দৃশ্যমান হয়। ত্বকের নিজেস্ব প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজার পারিপার্শ্বিক নানা কারণেই ধীরে ধীরে আমাদের হারিয়ে যায়। ত্বক হয় ওঠে নিষ্প্রাণ ও অনুজ্জ্বল। আবার দেখা যায় দীর্ঘদিন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেও স্কিনে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
এর পেছনে আসল কারণ কি? চলুন দেখে নেয়া যাক।
প্রথমেই জানা যাক ময়েশ্চারাইজার আসলে কি?
ময়েশ্চারাইজার হলো এক ধরনের বিশেষ স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট যেটি সাধারণত ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে ব্যবহার করা হয়। ময়েশ্চারাইজার কখনো লোশন,ক্রিম,জেল বা বাম এর মতো লিকুইড কিংবা সেমি-লিকুইড ফর্মে পাওয়া যায়। ত্বকের নির্দিষ্ট কন্সার্ন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ফর্মুলেট করা হয়। এতে বিভিন্ন অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস যেমন – ভিটামিনস, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড এসব পোটেন্ট ফর্মে থাকে বলে এটি স্কিনে দ্রুত অ্যাবজর্ব হয় এবং ইফেক্টিভলি কাজ করে।
স্কিনে ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজার থাকলে তাহলে এক্সট্রা ময়েশ্চারাইজার কেন ব্যবহার করব?
দ্রুতগামী এই জীবনে আমাদের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যার কারণে আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যায় । আরেকটু বুঝিয়ে বললে আমাদের স্কিনের ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজেশন তৈরি হয় পানি এবং সিবাম বা স্কিনের ন্যাচারাল অয়েল দিয়ে। স্কিন ওভার ক্লিঞ্জিং কিংবা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে স্কিনে ট্রান্স এপিডারমাল ওয়াটার লস হয় অর্থাৎ ত্বক থেকে আর্দ্রতা মিলিয়ে যায়। তখন স্কিন ড্রাই হয়ে যায়। স্কিন ইরিটেট করতে শুরু করে। স্কিনের পিএইচ লেভেল ইম্ব্যালেন্সড হয়ে যায়। স্কিন অতিরিক্ত ড্রাই হয়ে গেলে সেটি কমানোর জন্য স্কিন তখন অতিরিক্ত সিবাম প্রোডাকশন শুরু করে। এতে ত্বকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দেখা যায়। তাই স্কিনে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা
আমরা যে ভুলটা হর হামেশাই করি তা হলো ত্বকের ধরন বুঝে ঠিক মতো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করা। এর কারণে লম্বা সময়ের জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেও কোন ইফেক্টিভ রেজাল্ট পাওয়া যায় না। ড্রাই স্কিনে যে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয় তা যদি অয়েলি স্কিনে দেয়া হয় তাহলে স্কিন আরো বেশী তেলতেলে হয়ে যাবে। কারণ সেই ময়েশ্চারাইজারের কাজই হলো ড্রাই স্কিন কে ডিপলি ময়েশ্চারাইজ করা তাই তার ফর্মুলেশনও কিছুটা থিক হয়। তাই ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়শ্চারাইজার বেছে নিন।
- শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার
শুষ্ক ত্বকের জন্য হাইড্রেটিং ও থিক কন্সিস্টেন্সির মিল্ক, হায়ালুরনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন, শিয়া বাটার, বা সেরামাইডস সমৃদ্ধ ময়শ্চারাইজার বেছে নিন। ।
- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার
লাইটওয়েট, অয়েল-ফ্রি, নন-কমেডোজেনিক, জেল বেজড এবং ম্যাট ফিনিশ দেয় এমন ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। যেমনঃ অ্যালোভেরা, নিয়াসিনামাইড, বা হায়ালুরনিক অ্যাসিড।
- কম্বিনেশন স্কিনের জন্য
কম্বিনেশনের স্কিনের জন্য হালকা কিন্তু হাইড্রেটিং ময়শ্চারাইজার প্রয়োজন।
- সেনসিটিভ স্কিনের জন্য
সেনসিটিভ স্কিনেরজন্য পারফিউম, অ্যালকোহল ফ্রী ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
নরমাল স্কিনে রেগুলার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। একটি বিষয়ে মনে রাখা জরুরি, প্রতিনিয়তই আমরা আমাদের স্কিনে বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট ব্যবহার করছি। কোন প্রোডাক্টের ঠিক কোন ইনগ্রেডিয়েন্ট ঠিক কিভাবে স্কিনে রিঅ্যাক্ট করবে তা আমরা অনেক সময় বুঝতে পারিনা। তাই নতুন কোন প্রোডাক্ট স্কিনে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই সামান্য পরিমাণ প্রোডাক্ট হাতের কনুই কিংবা কানের পেছনে লাগিয়ে ৩০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা রেখে প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে।
স্কিন কেয়ারে আমরা আসলে মিনিমাল কিছু রাখতে চাই। তবে যেটুকুই আমরা করি না কেন তা যেনো ইফেক্টিভ হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। তাই ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার সঠিক ভাবে করলে অবশ্যই একটি ইফেক্টিভ রেজাল্ট পাওয়া যায়। যা মিনিমাল স্কিন কেয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। তবে বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করলে তার উপকারীতা ফলপ্রসূ হয়।