Discover Natural Beauty Tips
ছেলেদের ত্বকের যত্ন: কীভাবে করবেন?
আমাদের সবার মাঝে একটা ধারণা আছে স্কিন কেয়ার শুধুমাত্র মেয়েদের প্রয়োজন। কিন্তু বয়স কিংবা পরিবেশের পরিবর্তনের প্রভাব কি ছেলেদের ত্বকে পড়েনা? অবশ্যই পড়ে, কারণ ছেলেদের ত্বক ও তার ব্যাতিক্রম নয় । ত্বকের যত্ন বয়স ভেদে নারী-পুরুষ সবার জন্য । স্কিন কেয়ারে ব্যবহৃত যে ধরনের প্রোডাক্ট পাওয়া যায় তা নারী কিংবা পুরুষ সবার কথা চিন্তা করেই তৈরি করা হয়। কিছু প্রোডাক্ট আছে যার মোড়কেই এটি কারা ব্যবহার করতে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। যেগুলোতে তেমনকিছু উল্লেখ থাকে না তা নারী কিংবা পুরুষ সবাই ব্যবহার করতে পারেন। হেলদি স্কিনের জন্য বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন সব সময় সেরা একটি অপশন।
ছেলেদের স্কিন কেয়ার রুটিন কেমন হতে পারে চলুন তা জেনে নেয়া যাক!
ফেইস ক্লিনজিং
স্কিন কেয়ারের ফার্স্ট অ্যান্ড ইফেক্টিভ মেথড হলো ফেইস ক্লিঞ্জিং। কাজের প্রয়োজনে বেশীর ভাগ বাইরে থাকায় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, ঘাম, ময়লা ও ধুলোবালিতে স্কিনে ট্যান ও ডালনেস দেখা যায় । তাই দিনে অন্তত দু’বার স্কিন সুইটেবল যে কোন ক্লিঞ্জার বা ফেস ওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে চারকোল, ভিটামিন সি, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড কিংবা অ্যালোভেরা যুক্ত ফেস ওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই স্কিনের সাথে সুইটেবল হয় এমন ফেস ওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। যদি আগে থেকে কোন ট্রিটমেন্ট বা মেডিকেশন নিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারি পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
স্কিন এক্সফোলিয়েশন
ত্বকে জমে থাকা ময়লা ও ইম্পিউরিটিজ দূর করতে সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার ব্যবহার করা উচিৎ। স্কিন এক্সফোলিয়েশন দু ধরনের হতে পারে কেমিক্যাল এবং ফিজিক্যাল। কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েশন হিসাবে স্যালিসিলিক অ্যাসিড, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েশন এপ্রিকট স্ক্রাব, জোজোবা বিডস, বা ব্রাউন সুগার রুটিনে রাখা যেতে পারে। স্ক্রাবিং এর সময় বেশী ঘষা যাবেনা। এতে স্কিনে ইরিটেশন হতে পারে। তাই ফেইস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধোঁয়ার পর মুখ সামান্য পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে ৩০-৪৫ সেকেন্ড হালকা রাব করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক হয় কোমল ও উজ্জ্বল।
ফেসিয়াল সিরামের ব্যবহার
অনেকে মনে করেন সিরাম শুধুমাত্র মেয়েরা ব্যবহার করতে পারবে। সিরামের ফর্মুলেশন এমন ভাবে করা হয় যাতে নারী-পুরুষ সবাই ব্যবহার করতে পারেন। ফ্রী র্যাডিকেল ড্যামেজ এর কারণে স্কিনে লার্জ পোরস, এক্সেস সিবাম প্রোডাকশন, আইন ইভেন স্কিন টোন ইত্যাদি দেখা যায়। এসব সমস্যা কমিয়ে আনতে সিরাম হতে পারে একটি ইফেক্টিভ চয়েস। ফেইস ক্লিঞ্জিং, টোনিং এর পর স্কিনে সিরাম ড্যাবিং মোশনে ব্যবহার করুন ।
ময়েশ্চারাইজার
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার এর বিকল্প নেই। ছেলেদের স্কিন টেক্সচার মেয়েদের তুলনায় অনেকটা থিক বা পুরু হয়ে থাকে । তাই এই ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে স্কিন সুইটেবল ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা লোশন নিয়মিত ব্যবহার করলে স্কিন থাকে সফট অ্যান্ড গ্লোয়িং। সব ধরনের ময়েশ্চারাইজার স্কিনে স্যুট করবে না, তাই অবশ্যই স্কিন টাইপ বুঝে ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে হবে। আবার খুব বেশি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে স্কিন অয়েলি হয়ে যেতে পারে। তাই সিরাম ব্যবহারের পর পরিমাণমতো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। স্কিনের হাইড্রেশন ও ইলাস্টিসিটি বৃদ্ধিতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন, অ্যালোভেরা , নিয়াসিনামাইড আছে এমন প্রোডাক্ট স্কিন কেয়ারে রাখুন।
সানস্ক্রিন
স্কিন ট্যান বা শ্যামলা হয়ে যাওয়ার অভিযোগ আমাদের সব সময়ই থাকে । এর মূল কারণ হলো সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা। দিনে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্নি বা ইউভি রে (Ultra Violet Ray) ত্বক ভেতর থেকে ড্যামেজ করে ফেলে। এতে স্কিন ট্যান হয়ে যাওয়ার সাথে স্কিনে সময়ের আগেই রিংকেলস ও ফাইন লাইনস এর সমস্যা শুরু হয়ে যায়। তাই দিনের বেলা সূর্যের অতিবেগুনী রশ্নি থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখতে, বাইরে বের হবার ১৫-২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে ২ ঘন্টা পর পর সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। বাইক বা গাড়ি ব্যবহার করলে, হাত-পায়ে এসপিএফ যুক্ত লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে সানবার্ন থেকে ফেইস এর মতো স্কিনের অন্যান্য এক্সপোজড এরিয়া প্রোটেকটেড থাকবে।
সুস্থ ও সুন্দর ত্বক আত্নবিশ্বাসের প্রতীক। ত্বকের যত্ন বয়স ভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে তার যত্ন দিন শেষে নারী-পুরুষ সবারই নিতে হবে। সঠিক ও নিয়মিত যত্নে নিশ্চিত হবে ত্বকের সুস্থতা। যত্নে থাকুক আপনার সুন্দর ত্বক।