BANGLA, Blog

সিরাম এবং এসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য কি?

ত্বকের যত্নে তার চাহিদা বা সমস্যা অনুযায়ী আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হয়। কিছুদিন আগেও আমরা বেসিক স্কিন কেয়ার বলতে শুধু ফেইস ক্লিঞ্জিং, তারপর ময়েশ্চারাইজেশন বুঝেছি। এখন সময়ের সাথে আমরা ত্বকে সানস্ক্রিন ব্যবহারের গুরুত্ব বুঝতে পারছি। নিজেদের স্কিন কেয়ার রুটিন আরো উন্নত করতে ত্বকের জন্য কোনটা ভালো হবে, সেই চেষ্টা আমরা প্রতিনিয়ত করতে থাকি। আর তারই ধারাবাহিকতায় ত্বকে সিরাম ও এসেন্স এর ব্যবহার দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তবে একটা প্রশ্ন সবার মনে আসতেই পারে, সিরাম কিংবা এসেন্স এই দুটোর মধ্যেই অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট আছে। তাহলে কোনটি ব্যবহার করবো? আবার চাইলে কি দুটো একইসাথে ব্যবহার করা যায়? এইসব প্রশ্নের উত্তর থাকছে আজকের এই ব্লগে।

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক-

সিরাম আসলে কি?

সিরাম হলো লিক্যুইড বা জেল ফর্মুলেশনে তৈরি এক ধরনের স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট। এতে নিয়াসিনামাইড, স্যালিসিলিক কিংবা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের মতো অন্যান্য অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে, যা ত্বকে হতে থাকা সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়। ত্বকে এই ধরনের প্রোডাক্ট অ্যাডজাস্ট করানোর জন্যই মাত্রা বা কন্সেট্রেশন নির্ধারণ করা হয়। সিরামের অণু বা মলিকিউলস অনেক ছোট হওয়ায়, এটি ত্বকের গভীরতম স্তরে গিয়ে কাজ করে । সিরাম স্কিনে পিগমেন্টেশন, ডার্ক স্পটস, ভিজিবল রিংকেলস ও ফাইন লাইন্স কমানো কিংবা এনলার্জ পোরস মিনিমাইজেশন-এ দ্রততম সময় কাজ করে। এর কনসিস্টেন্সি বেশ লাইট ওয়েট এবং স্কিনে এক ধরনের নন-গ্রীসি ফিনিশ দেয় ।

কিভাবে এবং কোন সময় সিরাম ব্যবহার করা উচিৎ?

১. প্রথমে ভালমতো স্কিন সুইটেবল ফেসওয়াশ বা ক্লিঞ্জার দিয়ে ভালোমতো মুখ ধুয়ে নিন।

২. এরপর পরিষ্কার হাতে ড্রপার কিংবা পাম্পের সাহায্যে ৩-৪ ফোঁটা সিরাম নিয়ে মুখে ও গলায় আলতোভাবে ড্যাবিং মোশনে অ্যাপ্লাই করুন।

৩.ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন।

সিরাম সাধারণত স্কিনে টোনারের পর অ্যাপ্লাই করা হয় । তবে ব্যবহারের প্রথম দিকে স্কিন অ্যাডজাস্টমেন্ট এর জন্য স্বল্প মাত্রার সিরাম দিয়ে ব্যবহার শুরু করলে ভালো । সিরাম স্কিনে দিনে কিংবা রাতে দু ভাবেই করা যায়। তবে সিরাম রাতে ব্যবহার করলে ভালো। কেনো? কারণ ঘুমানোর সময় আমাদের স্কিন রিপেয়ার এবং রিজেনারেশন প্রসেস- এ থাকে। এই সময় যদি সিরাম ব্যবহার করা হয় তাহলে সেটি ভালোভাবে কাজ করে। স্কিন হয় হেলদি অ্যান্ড গ্লোয়িং।

এসেন্স কি?

এসেন্স হচ্ছে ওয়াটার বেজড ফর্মুলেশনে তৈরি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট, যার মধ্যে পোটেন্ট  ইনগ্রেডিয়েন্টস অ্যাক্টিভ ফর্মে থাকে বলে এটি স্কিনে অ্যাবজর্ব হয়ে স্কিন হাইড্রেট করতে সাহায্য করে । এতে স্কিনের টেক্সচার ইম্প্রুভ হয় এবং পরবর্তী স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট স্কিন দ্রুত অ্যাবজর্বশনের কাজ করে । এতে তুলনামূলক ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। স্কিন হয় সফট ও ময়েশ্চারাইজড

কিভাবে এসেন্স ব্যবহার করতে হয়?

এসেন্স এর ব্যবহার মূলত এর ফর্মুলেশনের ওপর নির্ভর করে।

১. প্রথমে পরিষ্কার হাতে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

২. টোনার ব্যবহারের পর ড্রপার কিংবা পাম্প এর  সাহায্যে ৩-৪ ফোঁটা বা পরিমাণমতো নিয়ে মুখে ও গলায় আলতোভাবে ড্যাবিং মোশনে অ্যাপ্লাই করুন।

৩. ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন।

সিরামের তুলনায় এসেন্স লাইট কনসেন্ট্রেশনের হওয়ায় এটি স্কিনে এক ধরনের নন-স্টিকি ফিনিশ দেয়। তাই দিনের বেলায় খুব সহজেই ব্যবহার কর যায়।

সিরাম ও এসেন্স কি একসাথে ব্যবহার করা যায়?

হ্যাঁ, সিরাম এবং এসেন্স স্কিনে একসাথে দিনে ও রাতে ব্যবহার করা যায়। ক্লিঞ্জিং ও টোনিং এর পর এসেন্স ব্যবহার করে তারপর সিরাম ব্যবহার করতে হবে। তবে এক্সফোলিয়েটিং সিরাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগে সিরাম ব্যবহার করে তারপর এসেন্স ব্যবহার করলে ভালো হয়। এতে স্কিন ইরিটেশন কমে আসে।

একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর আমাদের ত্বকের প্রয়োজনীয়তা এর ওপর নির্ভর করে স্কিন কেয়ার রুটিনে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়। সিরাম ও এসেন্স হলো এক ধরনের অ্যাডভান্সড স্কিন কেয়ার রুটিন যা সাধারণত ২০+ বয়সের পর থেকে সবচেয়ে ভালো। ঠিক এই সময় এই ধরনের পণ্যের কার্যকারিতা প্রভাব বেশ লক্ষ্যণীয়। তবে ত্বকের যত্নে তার ধরন বুঝে স্কিন কেয়ার ব্যবহার করা উচিৎ। এতে দ্রুততম সময়ে ত্বকে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। যত্নে থাকুক আপনার সুন্দর ত্বক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *