Discover Natural Beauty Tips
স্ক্যাল্প বিল্ড আপ কেন হয়? এর প্রতিকার কি?
গ্রীষ্মকালে আমাদের দেশের তাপমাত্রা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বেশ অস্বস্তিকর অনুভূত হয়। বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি এর প্রধান কারণ। সেই সাথে আমরা একটি বিষয় খেয়াল করি গরমকালে আমাদের চুল ভেতর থেকে ঘেমে যায়। চুল অনেকক্ষণ ঘামে ভিজে থাকলে ময়লা জমে মাথার তালু বা স্ক্যাল্প এ ইরিটেশন শুরু হয় । জমে থাকা কাদার মতো এক ধরনের আস্তরণ স্ক্যাল্প থেকে উঠে আসে। এটিকে বলা স্ক্যাল্প বিল্ড আপ।
স্ক্যাল্প বিল্ড আপ কি?
মাথার তালু বা স্ক্যাল্প এ জমে থাকা ময়লা, তেল, ফ্লেকিং এর কারণে ডেড স্কিন সেল এবং বিভিন্ন হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট এর রেসিডিউ ইত্যাদি জমে এক ধরণের আস্তরণ তৈরি হয় । মূলত এটাকেই বলা হয় স্ক্যাল্প বিল্ড আপ। সাধারণত স্ক্যাল্প ঘেমে গেলে এটি বেশ ভালো মতো বোঝা যায়। স্ক্যাল্পের এই বিল্ড আপ সাধারণত দুটি কারণে হয় একটি বিভিন্ন ধরনের হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারের কারণে আরেকটি প্রাকৃতিক ভাবে। আমরা চুল পরিষ্কার ও সুন্দর রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের অয়েল, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু প্রায় সময় তাড়াহুড়ো করে আমরা চুল ও স্ক্যাল্প ঠিকমতো ধুয়ে নেই না। ঠিক মতো ধুয়ে না নিলে প্রোডাক্ট রেসিডিউ বা অবশিষ্টাংশ স্ক্যাল্পে থেকে যায়। আবার ঘরে –বাইরে আমরা কাজ করতে থাকি। শরীর ঘেমে যাওয়া আমাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। স্ক্যাল্প ঘেমে যাওয়াও তার ব্যাতিক্রম নয়। এই ঘাম বসে গেলে ময়লা জমে আস্তরণ পড়তে থাকে।
অতিরিক্ত গরমের কারণে আমাদের স্ক্যাল্পে অয়েল প্রোডাকশন বেশি হয় সাথে ফ্লেকি স্ক্যাল্প বা ডেড স্কিন সেল এর সমস্যা তো আছেই। এসব মিলিয়েই স্ক্যাল্প বা হেয়ার বিল্ড আপ শুরু হয়।
স্ক্যাল্পে ফাঙ্গাল ইনফেকশন যেমন- খুশকি বা ড্যানড্রাফ ও পিম্পল এর কারণেও স্ক্যাল্প ভীষণ চুলকাতে থাকে। এই সমস্যা গুলোর কারণে আমরা যখন আমাদের হাতের নখ দিয়ে অনেক জোড়ে জোড়ে চুলকাতে থাকি তখন আমাদের স্ক্যাল্প ট্রিগার হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত সেবাম প্রোডাকশন শুরু করে। মূলত এই কারণ গুলই হল স্ক্যাল্পে বিল্ড আপ এর কারণ হিসেবে ধরা হয়।
স্ক্যাল্প বিল্ড আপ হলে করণীয় কি?
রেগুলার হেয়ার ওয়াশ
সারাদিনের জমে থাকা ময়লা দূর করতে নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখুন। দীর্ঘদিন চুল পানি দিয়ে ঠিকমতো না ধুলে স্ক্যাল্পে ময়লা ও তেল জমতে থাকে। সপ্তাহে ১-২ বার সুইটেবল শ্যাম্পু ও হেয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার এর কন্সিসটেন্সি শ্যাম্পুর তুলনায় ঘন হয়ে থাকে। এটি স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করলে, স্ক্যাল্প একদম অয়েলি হয়ে যেতে পারে। তখন খুশকির মতো সমস্যা শুরু হয়। কন্ডিশনার শুধুমাত্র চুলের আগায় ব্যবহার করুন। খুব বেশী গরম কিংবা ঠান্ডা নয়, নরমাল রুম টেম্পারেচারের পানি দিয়ে চুল ও মাথার তালুতে হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।
ক্ল্যারিফায়িং শ্যাম্পুর ব্যবহার
চুলে ক্ল্যারিফায়িং শ্যাম্পু ব্যবহার করলে তা স্ক্যাল্প বিল্ড আপ সমস্যায় রেগুলার শ্যাম্পুর থেকে ভালো কাজ করে। এই ধরনের ফর্মুলেশনের শ্যাম্পুতে হেভি সারফেক্ট্যান্ট থাকে যা চুলের গোড়া থেকে জমে থাকা ময়লা ও অতিরিক্ত সিবাম দূর করতে সাহায্য করে। তবে এই ধরনের শ্যাম্পুতে ভারী মাত্রায় সারফেক্ট্যান্ট থাকায় এটি স্ক্যাল্প অনেক সময় ওভারড্রাই করে চুল কিছুটা শুষ্ক করে দিতে পারে। তাই এই ধরনের শ্যাম্পু মাসে ১-২ বার ব্যবহার করলে ভালো।
স্ক্যাল্প এক্সফোলিয়েশন
আমরা যেমন ডেড স্কিন সেল বা মৃতকোষ দূর করার জন্য স্কিন এক্সফোলিয়েট করি, তেমনি আমাদের স্ক্যাল্পেও এই ধরনের এক্সফোলিয়েশন প্রয়োজন। তবে সেটি হতে হবে মাইল্ড। আজকাল স্ক্যাল্প এক্সফোলিয়েশনের জন্য সফট সিলিকন ব্রাশ পাওয়া যায়। ভেজা চুল কিছু সেকশনে ভাগ করে নিয়ে ব্রাশ দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করে নিতে হবে। বেশী জোড়ে ম্যাসাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এছাড়াও নারিকেল তেল, চিনি, লেবুর রস কিংবা অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার একসাথে মিশিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করে নিন। এরপর শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১-২ বার এই প্রসেস অ্যাপ্লাই করুন।
শুকনো অবস্থায় চুল আঁচড়ানো
বাইরের ধুলো ময়লা থেকে এসে শুকনো অবস্থায় চুল ব্রাশ বা চিরুনি দিয়ে হালকা ভাবে আঁচড়িয়ে নিন। এতে শুকনো অবস্থায় অনেক ময়লা ও ডেড স্কিন সেল ঝড়ে পড়ে।
স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করুন
যেসব জায়াগায় বাতাসে ধুলো-বালির উপস্থিতি অনেক বেশী সেখানে টুপি বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন।
চুল ঘেমে গেলে মুছে ফেলুন
অতিরিক্ত ঘামে চুল ভিজে ওঠে। বেশীক্ষণ ঘামে ভিজে থাকলে ময়লা বেশী জমে ও চুলের গোড়া নরম হয়ে বিল্ড আপ ও হেয়ার ফল শুরু হয়। চুল খুব বেশী টাইট করে বাঁধবেন না। সম্ভব হলে ঘেমে গেলে চুল শুকিয়ে নিন।
সারারাত তেল মাথায় দিয়ে না রাখা
আমরা অনেকে শ্যাম্পু করার আগে মাথায় তেল দিয়ে রাখি সারারাত। এভাবে তেল মাথায় লম্বা সময়ের জন্য রেখে দিলে স্ক্যাল্প ক্লগড হয়ে যায়। স্ক্যাল্পে এক ধরনের আস্তরণ পড়ে। এতে বিল্ড আপের সমস্যা বেড়ে যায়। তাই শ্যাম্পু করার ৩০ মিনিট আগে তেল ব্যবহার করুন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু ও কণ্ডিশনার ধুয়ে ফেলুন।
শ্যাম্পু পানির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন
তাড়াহুড়ো করে শ্যাম্পু ব্যবহার করলে এর রেসিডিউ রয়ে যায়। এতে স্ক্যাল্প বিল্ড আপ শুরু হয়। তাই পরিমাণ মতো শ্যাম্পুর সাথে অল্প কিছু পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
হেয়ার সিরাম বা অয়েলের অতিরিক্ত ব্যবহার
হেয়ার সিরাম বা অয়েল এ চুলের হাইড্রেশনের জন্য কন্ডিশনিং এজেন্ট বেশ ঘন অবস্থায় থাকে। তাই এই ধরনের প্রসাধনী অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিৎ নয়। চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী তেল বা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করুন।
ভেজা তোয়ালে বা কাপড় অনেকক্ষণ না রাখা
গোসলের পর ভেজা তোয়ালে বা গামছা বেশি সময় ধরে চুলে বেঁধে রাখবেন না। এতে চুলে ভেজা স্যাঁতসেঁতে ভাব বিল্ড আপ তৈরিতে সাহায্য করে। চুল ধোয়ার পর তোয়ালে বা গামছা দিয়ে সাথে সাথে মুছে ফেলুন।
চুলের বৃদ্ধি একটি চলমান প্রক্রিয়া। নতুন চুল গজাবে আবার ঝরে পড়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঘন চুলের জন্য স্ক্যাল্পের নারিশমেন্ট সবার আগে প্রয়োজন। যদি সেখানে কোন সমস্যা দেখা যায় তাহলে যে কোন ধরনের প্রোডাক্ট ব্যবহারে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। চুলের সুন্দর গঠন বৃদ্ধিতে হেলদি স্ক্যাল্পের গুরুত্ব তাই অপরিসীম।