BANGLA, Blog

৩০ – এর পর স্কিন কেয়ার কেমন হবে?

সময়ের সাথে সাথে সবকিছুরই পরিবর্তন হতে থাকে। আলাদা করে নারী কিংবা পুরুষ বলে নয়, এই পরিবর্তন সবার মাঝেই দেখা যায়। একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়, যে প্রোডাক্ট আমরা আমাদের রেগুলার স্কিন কেয়ারে দীর্ঘদিন ব্যবহার করে আসছি , তা একটা সময়ের পর আর হয়ত স্কিনে ইফেক্টিভলি কাজ করছে না। এর পারিপার্শ্বিক অনেকগুলো কারণের মধ্যে প্রধান হলো ত্বকের পরিবর্তন। স্কিন সেল রিজেনারেশন একটি চলমান প্রক্রিয়া। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের শরীরে কোলাজেন প্রোডাকশন কমে যেতে থাকে। এতে বিভিন্ন সাইন্স অফ এজিং যেমন- রিংকেলস, ফাইন লাইন্স কিংবা ড্রাইনেস সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। তাই বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিনের সাথে এডিশনাল কিছু স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট অ্যাড করা উচিৎ।

রেগুলার ফেস ক্লিঞ্জিং

যে কোন ধরনের ফেসিয়াল ক্লিঞ্জার বা ফেসওয়াশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেটিনল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিংবা পেপটাইড আছে এমন ক্লিঞ্জার বা ফেসওয়াশ বেছে নিতে হবে। শুরুর দিকে রেটিনল জাতীয় ফেসওয়াশ সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুন। এরপর রেটিনলের নির্দিষ্ট মাত্রা বা কনসেন্ট্রেশন স্কিনে অ্যাডজাস্ট হয়ে গেলে নিয়মিত ব্যবহার করতে শুরু করুন। ফেসওয়াশ কিংবা ক্লিঞ্জার হিসেবে স্কিনের জন্য প্যারাবেন ও সালফেট ফ্রী প্রোডাক্ট হতে পারে একটি বেস্ট অপশন।

স্কিন এক্সফোলিয়েশন

এই সময় স্কিনে বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে স্কিন কিছুটা সেনসিটিভ হয়ে যেতে পারে। তাই ডেড স্কিন রিমুভ করতে যে কোন ধরনের ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েশনের পরিবর্তে AHA (Alpha Hydroxy Acid) বা BHA(Beta Hydroxy Acid) যুক্ত ক্যামিক্যাল এক্সফোলিয়েটর বেছে নিতে হবে। এই ধরনের এক্সফোলিয়েশন স্কিনের জন্য ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েটর এর তুলনায় মাইল্ড অ্যান্ড জেন্টাল হয়ে থাকে। কেউ যদি ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েশন করতে চায় তাহলে – ল্যাক্টিক অ্যাসিড, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড অথবা স্যালিসিলিক অ্যাসিড আছে এমন স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। স্কিন সেনসিটিভিটি বুঝে যে কোন ধরনের স্ক্রাব সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুন।

স্কিন টোনিং

বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিনে টোনার একটি স্কিন বেনেফিশিয়াল প্রোডাক্ট । এটি আমাদের ত্বকের পিএইচ লেভেলকে ব্যালেন্স করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। সেই সাথে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ঠিকমতো অ্যাবজর্বশনের জন্য স্কিন প্রিপেয়ার করতে সাহায্য করে। এতে স্কিনে প্রোডাক্ট ইফেক্টিভলি কাজ করে। ভিজিবল রিংকেলস ও ফাইন লাইন্স কমে আসে। তাই ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পর টোনার ব্যবহার করুন।

সিরামের ব্যবহার

স্কিন কেয়ারে সিরাম একটি অ্যাডভান্সড স্কিন কেয়ার রুটিন। এইসব সিরামে অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট পোটেন্ট ফর্মে থাকে বলে এটি স্কিনে সমস্যায় দ্রুত কাজ করে। তাই ২৫+ বছর বয়সের পর থেকেই সিরামের ব্যবহার শুরু করে দেয়া উচিৎ। সিরাম একটি নির্দিষ্ট কনসেন্ট্রেশনে বা মাত্রায় হলে ত্বকের গভীরে পোঁছে এনলার্জড পোরস, রিংকেলস ও ফাইন লাইন্সের সমস্যা কমে আসে। বয়সের সাথে সাথে আমাদের কোলাজেন প্রোডাকশন আগের তুলনায় কমতে শুরু করে । ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। তাই ভিটামিন সি, রেটিনল, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড যুক্ত সিরাম ব্যবহার করুন। কিছু উপাদান স্কিনে অনেক সময় সরাসরি ব্যবহার করলে রিঅ্যাক্ট করতে পারে। যেমন- রেটিনল ব্যবহারের করার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। কন্সেন্ট্রেশন নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকলে রেটিনল প্রথমে ১-২ দিনের গ্যাপে ব্যবহার শুরু করুন। স্কিনে অ্যাডজাস্ট হয়ে গেলে রেগুলার ব্যবহার করুন। একই সময়ে যে কোন এক ধরনের সিরাম ব্যবহার করলে ভালো।

ময়েশ্চারাইজার

হেলদি স্কিনের যত্নে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের বিকল্প নেই। ময়েশ্চারাইজার আমাদের স্কিনে ময়েশ্চার রিস্টোর করে স্কিন রাখে হাইড্রেটেড ও সফট। সেরামাইড আছে এমন ময়েশ্চারাইজার স্কিনের জন্য উপকারী। কিছু ময়েশ্চারাইজার অ্যান্টি-এজিং এজেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় স্কিনে কোলাজেন প্রোডাকশন বুস্ট করে স্কিন হেলদি রাখতে সাহায্য করে।

সানস্ক্রিন এর ব্যবহার

স্কিনে এজিং সাইন্স যেমন- রিংকেলস ও ফাইন লাইনস এর ভিজিবিলিটি বেড়ে যায়। কেন? কারণ সূর্যের অতিবেগুনী রশ্নি বা ইউভি রে সরাসরি ত্বকের গভীরতম লেয়ারে পৌঁছে স্কিন ভেতর থেকে ড্যামেজ করে ফেলে। তাই বাইরে যে কোন ধরনের সান এক্সপোজারের আগে অবশ্যই স্কিন টাইপ বুঝে এবং ভালো এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

আই ক্রিম এর ব্যবহার

রিংকেলস ও ফাইন লাইন্স সাধারণত আমাদের চোখের নিচে বেশি পরিলক্ষিত হয় । এই ভিজিবিলিটি কমিয়ে আনিতে তাই রেটিনল যুক্ত আই ক্রিম ব্যবহার করুন।

তাছাড়া ঘরে বসেই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে অ্যান্টি-এজিং ফেস মাস্ক তৈরি করা যায়।

১. মধু ও দইয়ের ফেস মাস্ক

১ চামচ কাঁচা মধু ও ১ চামচ টক দই একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি রিংকেলস কমিয়ে আনে এবং ত্বক হয় কোমল ও মসৃণ।

২. কলা ও অলিভ অয়েলের ফেস মাস্ক

অর্ধেক পাকা কলা চটকে নরম করে ১ চা চামচ অলিভ অয়েলে মেশান। ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি স্কিন ইলাস্টিসিটি ইম্প্রুভ করতে সাহায্য করে।

৩. ডিমের সাদা অংশ ও লেবুর রসের মাস্ক

১ টি ডিমের সাদা অংশ ফেটিয়ে ১ চা চামচ লেবুর রস মেশান। ১০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি পোরস মিনিমাইজ করতে সাহায্য করে।

ত্বকের এই পরিবর্তন বেঁচে থাকা অবস্থায় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সব ধরনের ট্রিটমেন্টই একদম ম্যাজিক এর মতো কাজ করবে বিষয়টি এমন নয়। পরিবর্তনশীল জীবনচক্রে আমাদের ত্বক নিজে থেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। কার্যকরী কিছু উপাদান দিয়ে যদি একটি নির্দিষ্ট রুটিনের মধ্য দিয়ে যত্ন নিলে ত্বক থাকে হেলদি ও গ্লোয়িং সব সময়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *