BANGLA, Blog

রোজায় ত্বকের যত্ন

সিয়াম সাধনার পবিত্রতা আমাদের আত্নশুদ্ধির একটি সুন্দর সময়। এই সময় আমাদের গতানুগতিক জীবনে আসে পরিবর্তন। অন্যান্য বিষয়গুলির মতো ত্বকের যত্নেও প্রয়োজন বাড়তি খেয়াল। কিন্তু রোজা থাকা অবস্থায় আমাদের স্কিন কেয়ার কেমন হওয়া উচিৎ? এই চিন্তা আমাদের হতে থাকে। কিন্তু সময়ের তারতম্যে আমরা এটিকে খুব বেশী প্রাধান্য দেই না। এতে ত্বক হয়ে ওঠে মলিন। বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিনে সঠিক উপাদান সমৃদ্ধ প্রোডাক্ট এর ব্যবহার ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কিভাবে এই রুটিন সাজানো যায় চলুন এবার তা জেনে নেয়া যাক।

পর্যাপ্ত হাইড্রেশন

অনেক লম্বা একটা সময় আমাদের রোজা থাকতে হয়। খুব স্বভাবতই আমাদের স্কিন ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। এই সময় স্কিন ডিপলি ময়েশ্চারাইজ করে, লং টাইম হাইড্রেশন দেয় এমন প্রোডাক্ট স্কিন কেয়ার রুটিনে রাখতে পারেন। স্কিন ওভারড্রাই যাতে না করে তার জন্য অ্যালোভেরা, হানি, কিউকাম্বার, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্রীন-টি, ওটমিল, রোজ ওয়াটার ইত্যাদি আছে এমন ধরনের জেন্টাল ক্লিঞ্জার বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। এটি স্কিনে পিএইচ লেভেল ব্যালেন্স এর সাথে ত্বককে রাখে হাইড্রেটেড । সাহরী ও ইফতারের সময় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। খাবারের তালিকায় তাজা ফল ও শাক-সবজি রাখুন।

টোনারের ব্যবহার

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে স্কিন সুইটেবল টোনার ব্যবহার করুন। ভালোমতো ফেসওয়াশ দিয়ে ক্লিন করে ড্যাবিং মোশনে টোনার অ্যাপ্লাই করুন।

 

সানস্ক্রিন

স্কিনে সান ড্যামেজ থেকে রাহাই পেতে সানস্ক্রিন ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড কিংবা সেরামাইডস আছে এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এটি স্কিনে সান প্রোটেকশানের সাথে সাথে স্কিন ময়েশ্চারাইজড রাখতে সাহায্য করবে।

 

নাইট স্লিপিং মাস্ক

ইন্টেন্স হাইড্রেশনের জন্য স্লিপিং মাস্ক এখন জনপ্রিয়। জেল কিংবা ক্রিম ফর্মুলেশনে স্লিপিং মাস্ক হলো এক ধরনের ওভারনাইট মাস্ক যা স্কিনে ডিপ হাইড্রেশন প্রদান করে এবং স্কিন ব্যারিয়ার রিপেয়ার করে লম্বা সময়ের জন্য স্কিনে ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

লিপ বাম

অনেক সময় ডিহাইড্রেশনের কারণে আমাদের ঠোঁট অনেক শুষ্ক হয়ে যায়। এতে ঠোঁটের চামড়া উঠে আসে কিংবা ঠোঁট ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। শুষ্কতা দূর করতে নিয়মিত লিপ বাম বা জেল ব্যবহার করুন। ডেড স্কিন সেল দূর করতে সপ্তাহে ১-২ বার লেবুর রস, চিনি ও মধু একসাথে মিশিয়ে স্ক্রাব করে নিতে পারেন।

 

শাওয়ার জেল

শাওয়ার জেল সাবানের তুলনায় শাওয়ার জেল এর ক্ষারত্ব কিছুটা কম। গোসলের পর এটি স্কিন ওভারড্রাই করে না। এতে অ্যাক্টিভ হাইড্রেটিং এজেন্ট থাকায় নিয়মিত ব্যবহারে স্কিন হয় রিফ্রেশড অ্যান্ড সফট।

 

সুদিং জেল এর ব্যবহার

ক্রিমের তুলনায় সুদিং জেল এর কন্সিস্টেন্সি লাইট-ওয়েট ও নন-গ্রিসি হয়ে থাকে। এটি স্কিনে দ্রুত অ্যাবজর্ব হয়ে যায়। তাই স্কিন খুব বেশী টেনে ধরলে সুদিং জেল ব্যবহার করুন।

 

ঘরোয়া ফেসপ্যাকের ব্যবহার

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য ফেসপ্যাক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা আপনি ঘরেই তৈরি করতে পারেন:

১. মধু ও দই ফেসপ্যাক

১ চামচ দই এবং ১ চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজড রাখে এবং দই ত্বকের ডেড স্কিন সেল দূর করে ত্বককে রাখে সফট।

 

২. আলুর রস ও মুলতানি মাটি ফেসপ্যাক
১ টেবিল চামচ আলুর রস এবং ১ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। প্রয়োজন হলে গোলাপ জল অ্যাড করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আলুর রস ত্বককে হাইড্রেট করে এবং মুলতানি মাটি ত্বকের ময়লা ও তেল দূর করে।

 

৩. কলা ও মধু ফেসপ্যাক

১ চামচ মধু ও ১/২ টি পাকা কলা ভালোভাবে ম্যাশ করে মধুর সাথে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কলা স্কিন সফট রাখে এবং মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

আমাদের জীবনযাত্রা ও পরিবেশ পরিবর্তনের সাথে সাথে ত্বকের ওপর এর প্রভাব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরিবর্তিত রুটিনের কারণে ত্বক শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে যেতে পারে। তাই, এই সময়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া মানে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার একটি অংশ। সিয়াম সাধনার এই মাসে হৃদয়ের পূর্ণতা হোক ত্বকের যত্নের সাথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *